Saturday, August 22, 2009
Saturday, December 6, 2008
Friday, September 19, 2008
শারদীয়া
ক্যালেণ্ডার বলছে পুজো এসে গেল দেখতে দেখতে। গতকাল সকালে কলকাতা শহরে এসে পৌঁছেই ফুসফুস ভরে বাতাস নিলাম কিন্তু গন্ধটা, যেটা এতদিনে শহর ঢেকে ফেলার কথা সেটা পেলাম না কিছুতেই। বুঝলাম বয়স বেড়েছে, বুড়ো হচ্ছি।
ছোটবেলার পুজোর কথা ভাবতে গিয়ে প্রথমেই মনে পড়লো, রোল ক্যাপ। খেলনা পিস্তলে ভরে ফটাস ফটাস করে ফাটানো, নিজেকে অরণ্যদেবের সমগোত্রীয় কিছু মনে হত। রোল ক্যাপের একটা গোটা প্যাকেটের মতন অত বড় সম্পদ আর কিছু জোটেনি কোনদিন। ক্লাস এইটে পড়ার সময়, পূজোর ঠিক আগে বাবা মারা গেলেন। তার পর থেকে পুরো ব্যাপারটাই কেমন বদলে গেল। সেই বছরের কথা খুব মনে পড়ে, অশৌচের সাদা কাপড় পড়ে বারান্দা থেকে দেখছি আমার বন্ধুদের নতুন জামা কাপড়। উপরে বারান্দার দিকে চোখ পড়লে ওরাও কেমন থমকে যাচ্ছিলো।
কোন এক পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলাতে পড়েছিলাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা, 'পাগলা সাহেবের কবর'। তখন গল্পটা পড়ে তৈরী হওয়া ভালোলাগাটা শুধু নিজের মধ্যে ছিলো। পরে বুঝেছিলাম আসলে আমি একা নই, আরো কেউ কেউ আছে যারা ঝুমরির দেওয়া ছাতুমাখা খুঁটে খুঁটে খেয়ে ফেলে একটা ধাঁধার উত্তর ভাবতে ভাবতে। যারা ঐ গোলঘরটায় আমারই মতন কোন সময় দেখেছে নীল আলোর তৈরী সিঁড়ি আর একজন রোগা সাহেবকে। এর ফলে আমি আমার বন্ধুদের দু'ভাগে ভাগ করি - যারা পাগলা সাহেবের কবর দেখেছে আর যারা দেখেনি।
পুজো ব্যাপারটার সঙ্গে প্রেম ব্যাপারটা জড়িয়ে যায় একটা বয়সে এসে। আমার কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি। সমবয়সী মেয়েদের দেখতাম শাড়ি পরে দল বেঁধে হেঁটে যেতে। তখনই একটা ম্যাজিক হত - কোচিং-এ আমার পাশের বেঞ্চিতে বসে যে নোটস টোকে, তাকেও দেখে কেমন ঘোর লাগতো। মনে হত স্পটলাইটের উপর কেউ যেন বাটার পেপার লাগিয়ে দিয়েছে, কন্যেরা হয়ে উঠেছে সব ড্রীম গার্ল। সামনাসামনি পড়ে গেলেও কথা বলতে পারতাম না তেমন অথচ আমি চিরদিনই চূড়ান্ত বাচাল।
কলেজ পেরিয়ে চাকরীতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই পুজো ব্যাপারটা ঝাপসা হয়ে গেল। পুজোতে ছুটি নেই, ছুটি নিয়ে মারামারি, যদিও বা ছুটি মিললো বন্ধুরা উধাও, যারা আছে তারাও ক্লান্ত। এই ভাবেই বছর দশেক কাটলো। এখন জীবন থেকে তুচ্ছ সুখগুলো মুছে যাচ্ছে।
Thursday, August 28, 2008
অনেকদিন চুপ করে থেকে
আসলে অনেকদিন চুপ করে আছি। কারণ একমাত্র আমার কুঁড়েমি। বলার মতন অনেক কিছু জমছে, রোজই ভাবি বলেই ফেলি কিন্তু শেষ পর্যন্ত আড়মোড়া ভেঙে লিখতে বসাটা আর হয়ে ওঠে না। কয়েকটা কথা তো ইতিমধ্যে মনে হয় ভুলেও গেছি। যেটুকু ভুলিনি সেগুলো এই রকম -
- কাঁকুড়গাছিতে ক্রসওয়ার্ডের দোকান খুলেছে। কত্ত বই এক জায়গায়। বসে পড়লেও মানা করে না। এদিকে আমি পড়েছি আতান্তরে, ওখানে বসে বই পড়বো না একটু এগিয়ে সুন্দরীদের অবলোকন করবো, ঠিক করে উঠতে পারছি না।
- স্বাধীনতা দিবসে ছিলাম কলকাতায়। পূর্বাণী রেস্টুরান্টে সুমিত, ইন্দ্রজিত আর আমি হানা দিয়েছিলাম 'মাংসের সিঙাড়া'র লোভে। সিঙাড়ায় কামড় বসিয়েই মনে পড়লো ধ্রুবর কথা। ওকে ফোন করে বললাম কি করছি আমরা। কি ভাগ্যি, কলিযুগে ব্রহ্মশাপ আর তেমন কাজ করে না, করলে আমাদের তিনজনের ওলাউঠো, ক্ষয়কাশ, এলঝাইমারস ডিজিজ আর এইডস এক সাথে হবার কথা।
- কবিতা লিখতে পারছি না ইদানীং (এপ্রিল ফুল! কোনদিনই পারতাম না আসলে।), সুমিত বলেছে কফি হাউসে এই আনন্দে হরির লুঠ দেবে।
- ঘর রঙ হবার সৌজন্যে ক্যালিগ্রাফির কলমগুলো খুঁজে পেলাম কিন্তু সমস্যা হল, অক্ষরগুলো হারিয়ে গেছে।
- মাইনে কিঞ্চিত বেড়েছে, হিসেব করে দেখলাম সব মিলিয়ে লাভ সতেরো দশমিক পৌনে নকুলদানা।
- বাকি মনে নেই।
Wednesday, June 11, 2008
Thursday, June 5, 2008
একটি কবিতা - মেঘমানুষের পাপ পুণ্য
দরজা খুলতেই ওপচায় অন্ধকার
চাবি বলে ফিসফিস করে
‘ভয় থাকে কথা রাখবার, সে চুলোয় যাই না অতএব’
এদিকে আদ্যন্ত মেঘ
ঘরে ঢোকে, এসে বসে আমারই চেয়ারে
যাই বলি, শুধু হেসে যায়
মনে হয় অক্ষয় করোটি আমাকে ডাকছে যেন
গভীর খুঁড়ছে মাটি, গভীর খুঁড়ছে ছায়াবট
অকপট চেয়ে যাই উন্মুক্ত নারীর ভালোবাসা
যে নারীর স্তনগন্ধে পদ্ম নেই, আছে শুধু একান্ত বিশ্রাম
ফিরে আসা, বন্ধ চোখে, আকাশে বিদীর্ণ দুই হাত
ফিরে আসা প্রতিধ্বনি হয়ে
কখনো দিব্যি ভালো লাগে
একা থাকি
ভেসে ভেসে যাই –এই ঘর থেকে সেই ঘর
তোয়ালে শুকোতে থাকে চানঘরে
খুব চেনা জানলায় খুব চেনা দেওয়ালের রঙ
এলোমেলো বিছানা বালিশ ওলোটপালোট
হাওয়া আসে বৃষ্টির আগে
ভিজে যায় জানলার কাঁচ, জলকণা
টের পাই
আসলেতে আমি এক শরীরী মানুষ
চেটেপুটে নিতে চাই ভালোবাসা দহনবেলায়
নরম ঠোঁটের স্বাদ, স্পঞ্জের মত শুষে নিয়ে
ফুসফুস ভরে যায় প্রবল মানুষী ঘ্রাণ উথালপাথাল
আমার পাতাল ভালো লাগে
শিহরণ জাগে রোমকূপে
হেঁকে বলি, “ওহে চিলেকোঠা, খালি আছো? আজকের রাতও
কেটে যাবে, যা যা অজ্ঞাত, জেনে নাও এই তো সুযোগ”
অথচ খাতায় জমে ধূলো
অথচ ভাঙতে থাকে চাল, ক্রমশঃ মিইয়ে যায় চুলো
হঠাৎ বুঝতে পারি, আসলে আমার রঙ বাদামী হলুদ
এই বেলা ঝরে যাওয়া ভালো
এই বেলা ঝরে গেলে কালকের আলো হয়তো বলতে পারে
‘আহা, গেছে শেষমেশ’, হয়তো বলতে পারে
‘রেশ কিছু রইলো না, মিটে গেলো, সব শোধবোধ’
আগামীর রোদ, পুড়িয়ো আমাকে ভালোবেসে
নিঃশেষে পুড়িয়ো আমায়
সময় গড়ায়, পাখির বাসায় জাগে ভোর
রাত কেটে যায়
বাহুডোর শিথিলপাথর
আমাকে স্বাধীন করেছে এক নারী
আমি তারই চোখে চোখ রেখে ঘুণপোকা হই
উপহার দিই তীক্ষ্ণ দংষ্ট্রাক্ষত
কাঁধে, নাভিমূলে আছে যত কোমল প্রহর
সূর্য দেখেনি যারা
আবার দক্ষিণে
রাতে যখন পৌঁছোলাম তখন একাডেমির ডাইনিং হল বন্ধ হয়ে গেছিলো। সুতরাং রাতে আর খাওয়া দাওয়ার ঝামেলা করতে হল না। পরের দিন সকালে উঠেই গেলাম সমুদ্রতীরে।


একাডেমি সমুদ্রের ধারেই, জনবিরল সৈকত। ফিরে এসে ডাইনিং হল, ঢোকামাত্রই যে গন্ধটা পেলাম সেটা কিন্তু দশ বছরের পুরোনো স্মৃতিকে ফিরিয়ে দিলো। উপমা আর ইডলির বুফে, তার সাথে সম্ভরডাল আর চাটনী। সকাল ন’টার থেকে ক্লাস, এক্সিকিউটিভদের ক্লাস যেমন হয় ঠিক তেমনি। 

তিনটে নাগাদ ক্লাস শেষ করে যাওয়া হল মহাবলীপুরম। মহাবলীপুরমের স্মৃতি খুব আবছা হয়ে গেছিলো। ওখানে পৌঁছেও মনে পড়লো না, আগের বার কেমন দেখেছিলাম। 

ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে সাতটা, তাড়াতাড়ি ঘুম। পরের দিনও প্রায় একই রুটিন। সন্ধেবেলায় গেলাম টি-নগর, বছর দশেক আগে অনেক কিছু কেনাকাতা করেছিলাম হাঘরের মতন। এবার আর জায়গাটাকে তেমন আকর্ষণীয় বলে মনে হল না। ফিরে এলাম রাত্রি সাড়ে ন’টা নাগাদ। পরের দিন সকাল পাঁচটা পঞ্চাশে ফেরার হাওয়াইগাড়ি। খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তেই হল।একটা খুব সুন্দর পুল করেছে একাডেমিতে, তাতে অনেক শালুক ফুটেছে। সকালবেলায় বিকশিত, রোদ পরলেই পাপড়িগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।

আগের বার ইনস্টিট্যুটে থাকা দিনগুলোতে একটি মেয়েকে অনেক চিঠি লিখেছিলাম। এখন তার ঠিকানাও জানি না। 